স্থান: আসানসোল/বারাবনি
তারিখ: ৪ মে, ২০২৬
রিপোর্টার: ওম প্রকাশ শর্মা (ভারত টিভি নিউজ)
নমস্কার, আমি ওম প্রকাশ শর্মা আর আপনারা দেখছেন ভারত টিভি নিউজ। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ফলাফল সারা রাজ্যকে চমকে দিয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় অঘটনটি ঘটেছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার বারাবনি (২৮৩) বিধানসভা কেন্দ্রে। যে আসনটিকে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘অজেয় দুর্গ’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো, আজ সেখানে ভারতীয় জনতা পার্টি এক ঐতিহাসিক জয় নথিভুক্ত করল। বিজেপির অরিজিৎ রায়, বিদায়ী বিধায়ক তথা আসানসোলের মেয়র বিধান উপাধ্যায়কে এক বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।
বিস্তারিত রিপোর্ট: বারাবনির রণক্ষেত্র ও চূড়ান্ত ফলাফল
বারাবনি বিধানসভা কেন্দ্রে আজ সকাল থেকেই রুদ্ধশ্বাস লড়াই লক্ষ্য করা গেছে। তবে গণনার শেষে অর্থাৎ দ্বাদশ (১২তম) রাউন্ডের সমাপ্তিতে ছবিটা পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যায়।
১. চূড়ান্ত নির্বাচনী পরিসংখ্যান (ইভিএম রাউন্ড: ১২/১২)
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বারাবনির প্রধান প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটের খতিয়ান নিচে দেওয়া হলো:
| প্রার্থীর নাম | দল | মোট প্রাপ্ত ভোট | বর্তমান অবস্থা | ব্যবধান (Margin) |
| অরিজিৎ রায় | ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) | ৯০,৮৬০ | বিজয়ী (Leading) | + ১১,৫০৩ |
| বিধান উপাধ্যায় | তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) | ৭৯,৩৫৭ | পরাজিত (Trailing) | – ১১,৫০৩ |
| বিশ্বজিৎ বাউরি (বাপি) | আইএসএফ (ISF) | ৫,৫৫৩ | পরাজিত | – ৮৫,৩০৭ |
| জয়দেব রায় | কংগ্রেস (INC) | ২,৬০৬ | পরাজিত | – ৮৮,২৫৪ |
| অদ্বৈত দাস | এজেইউপি (AJUP) | ৯৭৮ | পরাজিত | – ৮৯,৮৮২ |
| নোটা (NOTA) | কোনটিই নয় | ২,৭৩৮ | – | – |
২. উপাধ্যায় পরিবারের ১৫ বছরের আধিপত্যের অবসান
বারাবনি আসনে বিধান উপাধ্যায়ের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। ২০১১ সাল থেকে তিনি টানা এই কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন এবং তাঁর বাবা মানিক উপাধ্যায়েরও এই এলাকায় দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু এবার অরিজিৎ রায় ১১,৫০৩ ভোটের নির্ণায়ক ব্যবধানে তাঁকে পরাজিত করে বারাবনির রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করলেন।
৩. অন্যান্য দলগুলির পরিস্থিতি

এই নির্বাচনে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির পারফরম্যান্স অত্যন্ত হতাশাজনক ছিল। বাম সমর্থিত ISF-এর বিশ্বজিৎ বাউরি তৃতীয় স্থানে থাকলেও তাঁর সংগৃহীত ভোট সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ছিল না। অন্যদিকে, হুমায়ুন কবিরের নতুন দল AJUP-এর অদ্বৈত দাস মাত্র ৯৭৮ ভোট পেয়েছেন। লক্ষণীয় বিষয় হলো, বারাবনির ২,৭৩৮ জন ভোটার NOTA-তে বোতাম টিপে কোনো প্রার্থীকেই যোগ্য বলে মনে করেননি।
জয়ের মূল কারণ: এক নজরে
- পরিবর্তনের ঢেউ: বারাবনির মানুষ এবার পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন।
- প্রতিষ্ঠা-বিরোধী হাওয়া (Anti-incumbency): দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার কারণে বিধান উপাধ্যায়ের প্রতি তৈরি হওয়া স্থানীয় ক্ষোভকে অরিজিৎ রায় কাজে লাগাতে সফল হয়েছেন।
- কয়লা বেল্টের সমীকরণ: শিল্পাঞ্চল ও খনি এলাকার শ্রমিকেরা এবার বিজেপির পক্ষে ব্যাপকভাবে ভোট দিয়েছেন।
বিজয়ী প্রার্থীর প্রতিক্রিয়া:
জয়ের পর অরিজিৎ রায় সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এই জয় আমার নয়, বারাবনির মানুষের জয়। মানুষ সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। এবার বারাবনিতে উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু হবে।”
বারাবনিতে বিজেপির এই জয় শুধু আসানসোল নয়, বরং দক্ষিণবঙ্গের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটা কি তবে বাংলায় ক্ষমতা পরিবর্তনের পূর্বাভাস? ভোট গণনা এখনো চলছে এবং অন্যান্য আসনের ফলাফলও আমাদের হাতে আসছে।
প্রতি মুহূর্তের আপডেটের জন্য চোখ রাখুন ভারত টিভি নিউজ-এর পর্দায়।
ক্যামেরা সহযোগীদের সাথে, আমি ওম প্রকাশ শর্মা, বারাবনি।






